সর্বশেষ

স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সেনাবাহিনীর নিকট ইউপিডিএফ নেতার অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ

প্রতিনিধি | আপডেট: ১০:১০, ডিসেম্বর ০৬ , ২০১৮

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর কাছে আত্নসমর্পন করেছে পার্বত্য চুক্তিবিরোধী সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসীত) নানিয়ার চর এর বিচার ও সাংগঠনিক পরিচালক।

ইউপিডিএফের নানিয়ারচর শাখার বিচার ও সাংগঠনিক শাখার পরিচালক হিসেবে কর্মরত খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দীঘিনালা উপজেলার মৃত মনরঞ্জন চাকমার ছেলে আনন্দ চাকমা ওরফে পরিচিত চাকমা। তিনি দীর্ঘ ৩৪ বছরের নিঃসঙ্গ সন্ত্রাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার তাগিদে গতকাল খাগড়াছড়ির মহালছড়ি সেনা জোনের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মো. মোসতাক আহমেদের কাছে নিজের ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের তৈরী একটি ৭.৬৫ এম এম পিস্তল ও ৩রাউন্ড এ্যামোসহ আত্নসমর্পন করেন।

বৃহস্পতিবার ৬ ডিসেম্বর দুপুরে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে আনন্দ চাকমা জানান, শান্তি চুক্তির আগে শান্তিবাহিনী নামক গেরিলা সংগঠনের সাথে থাকলেও চুক্তির পর জেএসএস ও সর্বশেষ গত ৭ বছর ধরে ইউপিডিএফের সাথে আছেন তিনি। এসময় তিনি নানিয়ার চর এলাকার বিচার ও সাংগঠনিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, সাধারণ উপজাতীয়দের নিজেদের অধিকার আদায়ের কথা বলে সংগঠনে টানলেও মূলত ইউপিডিএফ সাধারণ উপজাতীয়দের কল্যানে কাজ করেনি কখনো বরং নীতিভ্রষ্ট হয়ে চাঁদাবাজি,অপহরণ, খুন, ধর্ষনসহ নানা ধরণের অপকর্মে লিপ্ত সংগঠনটি। তাই নিজের, পরিবারের এবং সমাজের কথা চিন্তা করে ও মহালছড়ি জোন অধিনায়কের কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ইউপিডিএফ অন্যদের নয় বরং নীতির অমিল হলে নিজের কর্মীদেরও খুন করেন। শক্তিমান চাকমা ও বর্মাকেও ইউপিডিএফ হত্যা করেছে, এছাড়া সম্প্রতি কলেজ ছাত্রী মিতালী চাকমাকে অপহরণ করে ধর্ষনের ঘটনাটি তাকে ধারুন ভাবে নাড়া দিয়েছে বলে লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের চুক্তি পরবর্তী সময়ে পাহাড়ে নানা ধরণের উন্নয়ন মূখী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমি মুগ্ধ, যেখানে সরকার আমাদের জন্য এত কিছু করছে সেখানে ইউপিডিএফ কোন স্বার্থে আবারো সরকারের বিরুদ্ধে জনগনকে দাড় করাচ্ছে সেই কৌতুহলী প্রশ্নের উত্তর তিনি খুজেঁ পাননি বলেও জানান।

দীর্ঘ ৩ দশক পরিবার-পরিজন ছেড়ে পাহাড়ে পাহাড়ে জীবন কাটিয়ে আজ জীবনের শেষ সময়ে এসে এই নিঃসঙ্গতা কাটাতে ও ইউপিডিএফের কুমতলব বুঝতে পেরেই তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন বলেও জানান আনন্দ চাকমা।

সর্বশেষ তিনি স্বাভাবিক জীবন কাটাতে সরকারের নিকট নিরাপত্তা ও পূনর্বাসন দাবি করে বলেছেন সরকার যদি বাকিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষনা করেন তবে সবাই ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে।

পাঠকের মন্তব্য
লগইন করুন
লগইন মনে রাখুন