সর্বশেষ

রায়ের পর যা বললেন ওবায়দুল কাদের

অনলাইন ডেস্ক নিউজ | আপডেট: ১০:৩৫, অক্টোবর ১০ , ২০১৮

রায় ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কারা এই হামলার পেছনে মাস্টারমাইন্ড, গত ১৪ বছর ধরে সবাই জানে।

''বিলম্বিত হলেও, এই রায়ে আমরা অখুশি নই। কিন্তু আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্টও নই। কারণ এই রায়ে প্লান্যার এবং মাস্টার মাইন্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত ছিল, ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট (মৃত্যদণ্ড)।''

তবে তিনি মাস্টারমাউন্ড হিসাবে কারো নাম উল্লেখ করেননি বলে জানায় বিবিসি।

জামিন বাতিল হওয়া আট আসামি হলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব:) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো: আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী, মামলাটির তিন তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান ও এএসপি আব্দুর রশীদ এবং সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম।

এই আটজন ছাড়াও অন্য যে ২৩ জন কারাগারে রয়েছেন তারা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, মুফতি হান্নানের ভাই মুহিবুল্লাহ মফিজুর রহমান ওরফে অভি, মাওলানা আবু সাইদ ওরফে ডাক্তার জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো: জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, শাহাদত উল্যাহ ওরফে জুয়েল, হোসাইন আহমেদ তামিম, মইনুদ্দিন শেখ ওরফে আবু জান্দাল, আরিফ হাসান সুমন, মো: রফিকুল ইসলাম সবুজ, মো: উজ্জ্বল ওরফে রতন, হরকাতুল জিহাদ নেতা আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ওরফে জিএম, শেখ আব্দুস সালাম, কাশ্মিরী নাগরিক আব্দুল মাজেদ ভাট, আব্দুল হান্নান ওরফে সাব্বির, মাওলানা আব্দুর রউফ ওরফে পীর সাহেব, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, এনএসআইর সাবেক মহাপরিচালক আবদুর রহিম ও রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী।

পলাতক হিসেবে দেখানো হয়েছে ১৮ জনকে। তারা হলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদ, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিনসহ, মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তকিন, আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন, মো: খলিল, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো: ইকবাল, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন, সাবেক ডিসি পূর্ব মো: ওবায়দুর রহমান, সবেক ডিসি দক্ষিণ খান সাইদ হাসান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব:) সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার, মেজর জেনারেল (অব:) এ টি এম আমিন, হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক মো: হানিফ, শফিকুর রহমান, আব্দুল হাই ও বাবু ওরফে বাতুল বাবু।

গ্রেনেড হামলা মামলায় রায়
একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদন্ড এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

মামলার অন্য ১১ আসামির বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।
নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে অবস্থিত ঢাকার ১নং অস্থায়ী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে সকালে কারাগার থেকে ৩১ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
আজ থেকে ১৪ বছর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা মামলার আজ রায় দেয়া হয়। ভয়াবহ এই গ্রেনেড হামলায় শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পত্নী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মী।

মামলার ৫২ জন আসামির মধ্যে জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, উগ্রবাদী নেতা মুফতি হান্নান ও জেএমবি সদস্য শহিদুল আলম বিপুলের মৃত্যুদন্ড ইতোপূর্বে কার্যকর হওয়ায় মামলা থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। ফলে এ মামলায় এখন আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ জন। এর মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৮ জন পলাতক এবং ৩১ জন আসামিকে আজ আদালতে হাজির করা হয়।

পাঠকের মন্তব্য
লগইন করুন
লগইন মনে রাখুন