সর্বশেষ

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহে ভাটা

অনলাইন ডেস্ক নিউজ | আপডেট: ০৫:১৬, নভেম্বর ০৬ , ২০১৮

বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হয়েছে। কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে কমে সেপ্টেম্বরে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি নেমেছে ১৪ দশমিক ৬৭ শতাংশে। এ হার ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন।

আগের মাস আগস্টে বেসরকারি খাতে ঋণ বেড়েছিল ১৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে অবশ্য ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়ছিল।

তবে গত জানুয়ারিতে ঋণ-আমানত অনুপাত বা এডিআর কমানোর সিদ্ধান্তের পর তারল্য সংকট থেকে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমতির দিকে।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংকাররা জানান, নির্বাচনের বছর এমনিতেই ব্যাংকগুলো সতর্কতার সঙ্গে ঋণ বিতরণ করে। এর মধ্যে আবার গত ৩০ জানুয়ারি এক নির্দেশনার মাধ্যমে ঋণ বিতরণ ক্ষমতা কমানোর পর থেকে ব্যাংকগুলো চাপে রয়েছে।

সব ব্যাংকের ঋণ দেয়ার ক্ষমতা কমিয়ে প্রচলিত ধারার একটি ব্যাংকের ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৮৩ টাকা ৫০ পয়সা এবং ইসলামী ব্যাংকগুলোর ৮৯ টাকা ঋণ দেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। আগে যা ৮৫ এবং ৯০ টাকা ছিল।

এর পর ব্যাংকগুলো ১২ শতাংশ পর্যন্ত সুদে আমানত নিতে শুরু করে। আর ঋণ বিতরণ করে আরও বেশি সুদে। হঠাৎ ঋণের সুদ ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মহলের দাবির মুখে গত জুনে ব্যাংকগুলো বসে ৬ শতাংশ সুদে আমানত এবং ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণের ঘোষণা দেয়। যদিও অধিকাংশ ব্যাংক সব ক্ষেত্রে এখনও এমন সুদহার কার্যকর করেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুধু বার্ষিক প্রবৃদ্ধি কমেছে তা নয়, গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বেশি ছিল।

গত সেপ্টেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ১৮ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। গত জুনের তুলনায় যা ১১ হাজার ২১৪ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি।

গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ স্থিতি ছিল ৮ লাখ ১ হাজার ২১৫ কোটি টাকা। ওই বছরের জুনের তুলনায় যা বেশি ছিল ২৫ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা।

গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল থাকার পর গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে আমদানি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে বাড়তে থাকে। ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়তে বাড়তে গত বছরের নভেম্বরে ১৯ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশে ওঠে।

তবে নির্বাচনী বছরে হঠাৎ করে এভাবে ঋণ বাড়তে থাকায় বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন ওঠে। এক খাতের নামে ঋণ নিয়ে অন্য খাতে ব্যবহার, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন আশঙ্কায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

এরপর থেকে ব্যাংকগুলো কিছুটা চাপে পড়লেও গুণগত মানের ঋণ বিতরণ হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কাঙ্ক্ষিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য বাজারে কী পরিমাণ টাকা ছাড়া হবে তার একটি আগাম ধারণা দিতে ৬ মাস অন্তর মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে আগামী ডিসেম্বর নাগাদ বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৮০ শতাংশ।

পাঠকের মন্তব্য
লগইন করুন
লগইন মনে রাখুন