সর্বশেষ

আবারও বাড়ল ডলারের দাম আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক নিউজ | আপডেট: ০৭:৫২, অক্টোবর ১০ , ২০১৮

আবারও বাড়াল ডলারের দাম। তিন মাস আটকে রাখার পর ডলারের বিপরীতে টাকার মান পড়তে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। গত পাঁচ কার্যদিবসে ১০ পয়সা বেড়েছে প্রতি ডলারের দাম।

এতে আমদানি ব্যয় মেটাতে প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য আগে ৮৩ টাকা ৭৫ পয়সা দিলেও এখন দিতে হবে ৮৩ টাকা ৮৫ পয়সা। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমদানিকারক ও ভোক্তারা। তবে খোলাবাজারে ডলারের দাম আরও বেড়ে ৮৬ টাকায় উঠেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে, গত রোববার ৪৮টি ব্যাংক আমদানিমূল্য পরিশোধে প্রতি ডলারে দাম রেখেছে ৮৩ টাকা ৮৫ পয়সা। জানতে চাইলে জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার শফিকুর রহমান  বলেন, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানির খরচ বেড়ে যাবে।

এতে একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়বে অন্যদিকে মূল্যস্ফীতিও বেড়ে যাবে। তবে আমদানিকারকদের পাশাপাশি ভোক্তারা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে প্রতিবেশী দেশ ভারতে গত তিন মাসে ডলারের দাম ভারতীয় মুদ্রায় ৫ থেকে ৬ রুপি বেড়েছে। ভারতে গত জুনে প্রতি ডলারের দাম বিনিময়মূল্য ছিল ৬৮ দশমিক ৮০ রুপি, ৫ অক্টোবর তা বেড়ে ৭৪ রুপি ছাড়িয়ে যায়।

দেশটির মুদ্রানীতিতে নীতিনির্ধারণী সুদ হারের কোনো পরিবর্তন না আসার পরই ব্যাপক হারে রুপির দরপতন হয়। যেটা ভারতের ইতিহাসে রেকর্ড।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতে যেভাবে রুপির মান হারাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশ ডলারের আয় হারাতে পারে। এ জন্য রফতানি ও প্রবাসী আয় ধরে রাখতেই টাকার মানে কিছুটা ছাড় দেয়া হচ্ছে।

আরও কয়েকদিন এমন প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। এ প্রসঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, আমদানি ব্যাপক হারে বাড়ছে। অনেক বড় বড় প্রকল্পের কাজ চলছে। তাতে সামনের দিনগুলোতে ডলারের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

তাই টাকার মান অবনমন করলে অনেক বুঝে করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, চলতি বছরের জুন থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দাম নির্দিষ্ট করে দেয়। ব্যাংকগুলোকে মৌখিকভাবে জানিয়ে দেয়া হয়, ৮৩ টাকা ৭৫ পয়সার বেশি দামে আমদানি দায় শোধ করা যাবে না।

এ জন্য ব্যাংকগুলোর কাছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে ডলার বিক্রি করে, তার দামও ছিল ৮৩ টাকা ৭৫ পয়সা। ২৮ জুন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডলারের দাম এভাবেই আটকে রেখেছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

আর একই সময়ে বাজারের সংকট সামলাতে ব্যাংকগুলোর কাছে ২০ কোটি ডলার বিক্রি করেছে তারা। ৩ অক্টোবর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১৯৭ কোটি ডলার। জানা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে বাংলাদেশে ডলারের সংকট শুরু হয়।

রফতানি ও প্রবাসী আয়ের তুলনায় আমদানি দায় বেশি হওয়ায় এ সংকটের সূত্রপাত। এখন পর্যন্ত এই সংকটের কোনো সুরাহা হয়নি।

এদিকে টাকার সঙ্গে ভারতীয় রুপির বিনিময় হার প্রায় সমান পর্যায়ে নেমেছে। এখন এক টাকা ১৩ পয়সায় মিলছে এক রুপি। আর ১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে অন্তত ৮৮ রুপি। কয়েক মাস আগেও এক রুপি কিনতে খরচ করতে হতো এক টাকা ৩০ পয়সার বেশি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টাকা-রুপির দর এত কাছাকাছি আসতে দেখা যায়নি। এর আগে ২০১৬ সালের নভেম্বরে ভারতে নোট বাতিলের ঘটনায় রুপির ব্যাপক দরপতনের পরও দাম ছিল এক টাকা ১৫ পয়সা।

ডলারের বিপরীতে রুপি যে হারে দর হারাচ্ছে, টাকার দরপতন হচ্ছে সে তুলনায় কম। এ কারণে রুপির সঙ্গে বিনিময়ে টাকা শক্তিশালী হচ্ছে। রুপির এই দরপতন বাংলাদেশের বাণিজ্যের ওপর মিশ্র প্রভাব ফেলছে। ভারত থেকে আমদানি ব্যয় কমছে।

অন্যদিকে ভারতের মুদ্রার বেশি পতন হওয়ায় সে দেশের রফতানিকারকরা বাংলাদেশের তুলনায় প্রতিযোগিতায় সুবিধা পাচ্ছে। ভারতে বাংলাদেশে রফতানির তুলনায় আমদানির পরিমাণ অনেক বেশি।

গত অর্থবছরে দেশের মোট আমদানি পাঁচ হাজার ৪৪৬ কোটি ডলার। আর মোট রফতানি তিন হাজার ৬৬৭ কোটি ডলারের। রেমিটেন্স এসেছে এক হাজার ৪৯৮ কোটি ডলারের। এর মধ্যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য রয়েছে ৯০০ কোটি ডলারের বেশি।

বাংলাদেশ থেকে গত অর্থবছরে ভারতে রফতানি হয়েছে মাত্র ৮৭ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের পণ্য। ৮০০ কোটি ডলারের বেশি পণ্য সে দেশ থেকে আমদানি হয়েছে। এর বাইরে চিকিৎসা, শিক্ষা, ভ্রমণসহ বিভিন্ন কারণে এখন বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ভারতে যান।

এছাড়া অনেক ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতে কর্মরত আছেন। রুপির দ্রুত দরপতন হলে এসব ভারতীয় বাংলাদেশ থেকে ধীরগতিতে টাকা পাঠিয়ে থাকেন। ফলে টাকা-রুপির দর কাছাকাছি এলে বাংলাদেশের লাভই বেশি।

পাঠকের মন্তব্য
লগইন করুন
লগইন মনে রাখুন