সর্বশেষ

কাজের মনোযোগ নষ্ট করে ফেসবুক

অনলাইন ডেস্ক নিউজ | আপডেট: ০২:৪৬, ডিসেম্বর ০৪ , ২০১৮

আপনি একটি কাজ অনেক মনোযোগ সহকারে করছেন। ঠিক এমন সময় মুঠোফোন আপনাকে জানিয়ে দিল ফেসবুকে কেউ আপনাককে বার্তা পাঠিয়েছে। এমন অবস্থায় আপনি কি করবেন? আপনি বিরক্ত হতেন। আর যদি বিরক্ত নাও হতেন তাহলে আপনার মনোযোগ ছুটে যেত ফোনের দিকে। অবশ্যই আপনার কাজে বাধা পড়ত। মনোযোগে বাধা পড়লে তা কোন কাজই সম্ভব হয় না। মানুষের একইসঙ্গে একাধিক কাজ করা বা মাল্টি-টাস্কিংয়ের ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু ক্ষমতা থাকলেও তাতে কোনো কাজই ঠিকঠাক হয়ে ওঠে না। এ বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কম গবেষণা হয়নি। আর সব গবেষণার ফলই নেতিবাচক এসেছে। বর্তমান সময়ের গবেষণাগুলো বলছে, স্মার্টফোনের ওপর বেশি মাত্রায় নির্ভরশীলতাই এই সমস্যার মূল কারণ। আমরা এই স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে ফেসবুক, ভাইবার, হোয়াটস অ্যাপসহ আরও বিভিন্ন ধরণের স্যোশাল সাইট ব্যাবহার করি। এক গবেষণা বলছে, কাজের ফাঁকে ফেসবুকে ৩০ সেকেন্ড চোখ বুলিয়ে নেওয়া মানে শুধু ৩০ সেকেন্ড নয়, প্রায় ২৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের জন্য কাজের বাইরে চলে যাওয়া। এই সমস্যাকে বলা হচ্ছে ‘ডিজিটাল ডিসট্র্যাকশন’। বিভিন্ন গবেষণার ফল এতে তুলে ধরা হলো- ১। কাজে বাধা পড়লে গড়ে ২৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ড লাগে পুনরায় মনোযোগ ফিরে পেতে। ২। উচ্চ মানসিক চাপ, খারাপ মেজাজ এবং কম উৎপাদনশীলতার কারণ এই মনোযোগে বাধা। ৩। যুক্তরাষ্ট্রে মানবসৃষ্ট দুর্ঘটনার ১০ দশমিক ৫ শতাংশ হয় ডিজিটাল ডিসট্র্যাকশনের জন্য। ৪। শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে কাটানো সময়ের এক-পঞ্চমাংশ তাদের ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহারে ব্যয় করে যা তাদের শ্রেণিকক্ষের কাজের সঙ্গে জড়িত না। ৫। ইন্টারনেটের যুগে জন্মগ্রহণকারীদের ডিজিটাল নেটিভ বলা হয়। এরা প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ২৭ বার কাজ পরিবর্তন করে! ৬। যদি কোনো শিক্ষার্থী প্রতি ১৫ মিনিটে একবার ফেসবুকে ঢুঁ মারে তবে তার পরীক্ষার ফল খারাপ হয়। ৭। কাজের সময় ই-মেইল বা টিভি দেখলে মস্তিষ্কের ভুল অংশে তথ্য জমা হয়। প্রয়োজনের সময় সে তথ্য খুঁজে পেতে সমস্যা হয়। ৮। আসক্তি থেকে অনেক সময় ‘ফ্যানটম ভাইব্রেশন সিনড্রোম’ নামের মানসিক রোগ দেখা দেয়। এতে মোবাইল ফোনে কল না এলেও মনে হতে থাকে যেন রিং বা ভাইব্রেশন হচ্ছে।

পাঠকের মন্তব্য
লগইন করুন
লগইন মনে রাখুন