সর্বশেষ

দিবসকেন্দ্রিক নবীপ্রেমিক

অনলাইন ডেস্ক নিউজ | আপডেট: ০৮:৩০, নভেম্বর ২৭ , ২০১৮

সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর নবীপ্রেমের হাজারও দৃষ্টান্ত রয়েছে। নবীজিকে (সা.) তারা পিতা-মাতা, সন্তানাদি এমনকি নিজের জীবন থেকেও বেশি ভালো বেসেছেন। নবীজি (সা.)-এর প্রতি তাদের হৃদয়ে এতটাই ভালোবাসা ছিল, তাঁর প্রতিটি কাজকর্মের প্রতিফলন নিজেদের জীবনে ঘটিয়েছেন। তাঁর আদর্শকে বুকে ধারণ করে অনুকরণ করেছেন। আজকাল আমরা সবাই বলি, আমরা নবীজিকে (সা.) ভালোবাসি, তার আদর্শ অনুসরণ করি; কিন্তু মুখে বললেও কাজে সে ভালোবাসা বিন্দুমাত্র প্রকাশ পায় না। মানুষ নিজেকে ভাবে নবীপ্রেমিক, অথচ কাজেকর্মে তার লক্ষণ প্রকাশ পায় না। চালচলনে নেই নবীপ্রেমিকের কোনো প্রভাব। রাসূলুল্লাহ (সা.) অভুক্ত কোনো প্রতিবেশী রেখে কখনও খাবার খেতেন না। অনেক সময় ঘরে সামান্য খাবার থাকলে সেটাও দান করে নিজে অনাহারে ভুগতেন। অথচ আমাদের অবস্থা হল এমন, খাওয়ার সময় কোনো অনাহারি অসহায় চোখে তাকিয়ে থাকলেও আমাদের মনে দয়ার উদ্রেক হয় না। দূর দূর করে তাড়িয়ে দেই তাদের। এটাই কি নবীজির আদর্শ? কোনো দৃষ্টিতে খাঁটি নবীপ্রেমিক হতে পারলাম আমরা? ধনীরা যদি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ বুকে লালন করে দরিদ্রদের মন খুলে দান করত, তাহলে দেশে দারিদ্র্য থাকত না। অন্যান্য ক্ষেত্রেও আমাদের মধ্যে নবীজির আদর্শ নেই বললেই চলে। পরস্পরে মারামারি-কাটাকাটি, ঝগড়া, হিংসা-প্রতিহিংসা, সুদ-ঘুষ আর অনৈতিক কাজে ভরে গেছে গোটা সমাজ। আমরা যদি সত্যিকারের নবীপ্রেমিক হতাম, তাঁর মতো মনের ভেতর সহিষ্ণুতা ও হৃদ্যতা পোষণ করতাম তাহলে সমাজের এ করুণ দশা আজ হতো না। শ্রমিক-মালিকের মধ্যেও ইদানীং চলে রেষারেষি আর মনোমালিন্য। শ্রমিক যদি রাসূলুল্লাহ (সা.) এর আদর্শ মেনে চলে ও কাজে ফাঁকি না দেয় আর মালিকও শ্রমিকদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করে ও সময়মতো বেতন পরিশোধ করে, তাহলে এ সমস্যার সৃষ্টি হবে না। ব্যবসা-বাণিজ্যে রাসূলুল্লাহ (সা.) ন্যায়পরায়ণতা আর সততা-বিশ্বাসের অনুপম আদর্শ রেখে গেছেন। বর্তমান যুগের ব্যবসায়ীরা যদি নবীপ্রেমিক হতো, তাহলে বর্তমান বাজারের অস্থিরতা, টেন্ডার, মজুদদারি, খাদ্যে ভেজাল, ক্রয়-বিক্রয়ে মিথ্যা ও ধোঁকার আশ্রয় নেয়া- এসবের কিছুই থাকত না। আমাদের বাজার হতো চৌদ্দশত বছর আগের সততায় পরিপূর্ণ মদিনার বাজারের মতো। ব্যক্তি, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের মতো রাসূলুল্লাহ (সা.) পরিপূর্ণ ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠায় ছিলেন সফল একজন রাষ্ট্রনায়ক। ইনসাফ, ন্যায়নীতি আর প্রজাদের প্রতি সহনশীলতা ছিল তার শাসনকার্যের অন্যতম অংশ। পবিত্র কোরআনের হুকুম অনুযায়ী অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে পরিচালনা করেছিলেন পুরো মুসলিম জাহান। তার আদর্শের অনুকরণ করে পরবর্তী যুগে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ও শাসনকার্য পরিচালনা করেছেন সুন্দরভাবে। সে কারণে তখনকার যুগে বর্তমান সময়ের মতো রাষ্ট্রীয় কাজে কোনো বিশৃঙ্খলা ছিল না। বর্তমানের শাসকরাও যদি সত্যিকার নবীপ্রেমিক হতো আর তাঁর দর্শানো ইসলামী পদ্ধতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করত, তাহলে পুরো রাষ্ট্রে বইত শান্তি-সুখের হাওয়া। কিছু লোক আছেন রাসূলুল্লাহ (সা.) এর প্রতি তাদের ভালোবাসা দিবসকেন্দ্রিক। ১২ রবিউল আউয়াল এলে তাদের উৎপাত হয় চোখে পড়ার মতো। এ দিনটি উৎসবের সঙ্গে পালন করা যদি একমাত্র নবীপ্রেম হতো তাহলে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ও পূর্ববর্তী আলেমে দ্বীন আরও ঘটা করে দিনটিকে পালন করতেন। অথচ এর কোনো নজির নেই ইতিহাসে। নবীজি (সা.) কে ভালোবাসার নামে তারা এসব করে বেড়ায়। অথচ নবীপ্রেম তাদের অন্তরে কতটুকু আছে প্রশ্ন জাগে। মনে রাখতে হবে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি মুমিনের ভালোবাসা একটিমাত্র দিনে নয়, বরং তাঁর প্রতি ভালোবাসা হবে প্রতিটি ক্ষণ, প্রতিটি নিঃশ্বাসে। যদি আমরা সব ক্ষেত্রে ওসব কাজে তাঁর পরিপূর্ণ অনুসরণ এবং অনুকরণ করতে পারি, তাহলেই হতে পারব সত্যিকার নবীপ্রেমিক।

পাঠকের মন্তব্য
লগইন করুন
লগইন মনে রাখুন