সর্বশেষ

মটরসাইকেল ভাংচুর প্রায় ২ ঘন্টা রাস্তা অবরোধ রাণীনগরে পুকুরের দখলকে কেন্দ্র করে যুবলীগ নেতা নিহত ॥ আহত ৮ ,আটক ৪

কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ) : নওগাঁর রাণীনগরে খাস পুকুরের দখলকে কেন্দ্র করে আজিম উদ্দীন (৩৬) নামের এক যুবলীগের সহ-সভাপতি নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছে ৮ জন । এসময় স্থানীয় লোকজন হামলাকারীদের ধাওয়া করলে মটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে গেলে জনতা দু’টি মটরসাইকেল ভাঙচুর করে । এর পর বিক্ষুদ্ধজনতা রামÍায় আগুন.....

লক্ষ্মীপুরে পুলিশের ওপর হামলা : মূল আসামি গ্রেপ্তার

অ আ আবীর আকাশ, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুরে সহকারী উপ-পরিদর্শকসহ দুই পুলিশকে মারধর করার অভিযোগে.....

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও গোয়েন্দা সংস্থা’র হস্তক্ষেপ কামনা করে পলাশবাড়ীতে মহিলা ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার সংবাদ সম্মেলন

এল.এন.শাহী, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধায় ৬৫ মাদক স্পট ১২১ জনের নিয়ন্ত্রণে শীর্ষক গত ১৭ মে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায়.....

পলাশবাড়ীতে মহিলাসহ অজ্ঞান পাটির ৩ সদস্য গ্রেফতার

এল.এন.শাহী, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মহিলাসহ অজ্ঞান পাটির ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। থানা সূত্রে.....

গাইবান্ধায় পৌরসভার ভেজাল বিরোধী অভিযান ।। ১৫ মণ পঁচা আম জব্ধ।। ২ হাজার ৫শ টাকা জরিমানা

এল.এন.শাহী, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধা পৌরসভার উদ্যোগে রোববার শহরের পুরাতন বাজারে চাচা ভাতিজা আমের আরতে ভেজাল বিরোধী.....

শার্শার সেফটি ট্যাংকি নির্মান করতে গিয়ে নিহত-১,আহত -৩

আরিফুজ্জামান আরিফ।।শার্শার দক্ষিন বুরুজ বাগানগ্রামে সেফটি ট্যাংকি তৈরি করার সময় ইমন (১৭) নামের এক নির্মান শ্রমিকের মর্মান্তিক.....

ফরিদপুরে ট্রাক উল্টে হেলপার নিহত

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় পাথরবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে খাদে পড়ে গেছে। এতে ঘটনাস্থলে ওই ট্রাকের হেলপার মিলন শেখ নিহত হন।.....

ফেসবুকের সিইও হতে চান হিলারি ক্লিনটন

হিলারি ক্লিনটন ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন ফার্স্ট লেডি। ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান.....

উগান্ডায় বাস-ট্রাক্টর সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ২২

উগান্ডার উত্তরাঞ্চলে বাসের সঙ্গে ট্রাক্টরের সংঘর্ষে তিন শিশুসহ ২২ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির পুলিশের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে.....

ঘূর্ণিঝড় মেকুনুর আঘাতে নিহত ১০, নিখোঁজ ৪০

মধ্যপ্রাচ্যের ওমানের পূর্ব ও ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় মেকুনুর আঘাতে ১২ বছরের এক কিশোরীসহ অন্তত ১০ জন নিহত.....

উপলক্ষ ঈদ ডেমরায় অটোরিকশা ভাড়া তিনগুণ অন্য পরিবহনেও বেড়েছে ভাড়া

পবিত্র ঈদুল ফিতর আসন্ন। শহরের প্রাণকেন্দ্রে যাতায়াত বাড়ছে। নতুন জামাকাপড়ের আনকমন কালেকশন দ্রুত শেষ হয়ে যাবে বলে ঈদ কেনাকাটার.....

  • সর্বশেষ
  • সর্বশেষ পঠিত

অবশেষে রানার বিরুদ্ধে আদালতে দুদকের চার্জশিট দাখিল

( ১০ জুলাই ২০১৪ ০৪:৫২ )

বাধা দিলে পাল্টা জবাব- খালেদা

( ১০ জুলাই ২০১৪ ০৪:৫২ )

'নক্ষত্র'-এ ই-শপিং

( ১০ জুলাই ২০১৪ ০৪:৫২ )

বিশ্বের শীর্ষ এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নেই ঢাবি

( ১০ জুলাই ২০১৪ ০৪:৫২ )

জাতীয়

উপলক্ষ ঈদ ডেমরায় অটোরিকশা ভাড়া তিনগুণ...

অনলাইন ডেস্ক নিউজ | আপডেট: ০৯:৫৮, মে ২৭ , ২০১৮

পবিত্র ঈদুল ফিতর আসন্ন। শহরের প্রাণকেন্দ্রে যাতায়াত বাড়ছে। নতুন জামাকাপড়ের আনকমন কালেকশন দ্রুত শেষ হয়ে যাবে বলে ঈদ কেনাকাটার বেশি সময় নেই।

তাই ব্যস্ত সবাই ঈদের কেনাকাটায়। পরিবারের সবাই মিলে শহরের সুবিশাল মার্কেট-শপিংমল ও বিপণিবিতানে যাওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে রোজা শুরুর পর থেকেই। সঙ্গতকারণে সড়কে চলাফেরা বেড়েছে সাধারণ মানুষের।

এতে বাড়তি চাপ পড়েছে যাত্রীবাহী বিভিন্ন যানবাহনের ওপর। আর গুরুত্বপূর্ণ এ সময়টায় সিএনজি অটোরিকশা চালকদের পোয়াবারো বলে অভিযোগ উঠেছে। সে সঙ্গে অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী যানবাহনগুলোর ভাড়াও বেড়েছে।

বাড়তি রোজগারের আশায় রাত-দিন পরিশ্রম করছেন চালকরা। একদিকে বর্ষণ, অন্যদিকে যাত্রাবাড়ী সড়কের বেহাল দশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চাহিদা এখন ব্যাপক।

এখানকার কর্দমাক্ত সড়কে শহরমুখী বাস-লেগুনায় যাতায়াতের বিশেষ সুবিধা না থাকায় সহজ যাতায়াতের জন্য সিএনজি অটোরিকশা এখন ডেমরার প্রধান যানবাহন।

শহরের যানজট পেরিয়ে ঈদ কেনাকাটায় একটু আরামে শপিংয়ে যেতে সিএনজি অটোরিকশার বিকল্প নেই। এখানকার সচ্ছল ও মধ্যম আয়ের মানুষরা স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে ভাড়ায়চালিত ট্যাক্সি-মাইক্রোবাসের পাশাপাশি অটোরিকশায় যাতায়াত শুরু করেছেন।

আর এ সুযোগটা হাতছাড়া করতে চাইছেন না চালকরা। রোজার সময় বিধায় দুপুরের পর থেকেই সর্বস্তরের মানুষ রাস্তায় নামছেন ঠিকই কিন্তু তুলনামূলকভাবে অটোরিকশা কম। ফলে রাজধানীর কথা বললেই ভাড়া চারগুণ হাঁকাচ্ছেন চালকরা।

পরে দর কষাকষি শেষে ন্যূনতম তিনগুণ ভাড়ায় যেতে হচ্ছে যাত্রীদের। অন্যথায় অন্য যাত্রী ভাড়া করে ফেলে ওই সিএনজি অটোরিকশা! ন্যায্য ভাড়ার কথা বলতেই চালকদের তিক্ত কথা শুনতে হচ্ছে যাত্রী সাধারণের।

অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে জবাব দিচ্ছেন চালকরা। মিটারের তোয়াক্কা নেই। এ সময়টায় অসহায়-নিরুপায় যাত্রীদের যাতায়াত করতে হচ্ছে সিএনজি অটোরিকশা চালকদের মর্জিতেই।

সপরিবারে স্টাফ কোয়ার্টার থেকে এলিফেন্ট রোড যাওয়ার সময় তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে তিতাস গ্যাসের ইঞ্জিনিয়ার মো. শরীফ আহম্মেদ বলেন, এভাবে যাতায়াতে অব্যবস্থাপনা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।

বছরের এ সময়টায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কেনাকাটা করতে কমবেশি সবারই যেতে হয়। তাই বলে তিনগুণ ভাড়া গুনতে হবে আমাদের?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সিএনজি অটোরিকশা মালিক  বলেন, দিনে দিনে সব খরচ বেড়েছে। বর্তমানে বিশ্বস্ত চালক কম থাকায় অপরিচিত চালকদের কাছে গাড়ি ছেড়ে দিতে ভয় থাকে।

আমাদের অনেক গাড়ি চুরি হয়ে গেছে। যাদের কাছে গাড়ি দেই তারা বিশ্বস্ত। আর রোজার মাস বলে ইফতারের পর অনেক চালকরা সিএনজি চালাতে চান না। তাছাড়া ঈদের জন্য সবাই বাড়তি রোজগার করতে চান।

বছরে দু’একবার একটু বাড়তি রোজগারের আশায় ভাড়া বেশি নেয়া দোষের কিছু নয়। তাছাড়া রোজার মাসে সাংসারিক খরচ বেশি। তাদের অভিমত, ঈদের আগে ডেমরাসহ রাজধানীতে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তাই সাধারণ মানুষ জীবন-জীবিকার তাগিদে ও বিভিন্ন প্রয়োজনে নিরাপত্তার জন্য সিএনজিতে চলাচল করছেন।

এদিকে সিএনজি চালকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের অভিযোগ প্রতিদিনকার জমা ১০৫০ টাকা। গ্যাস ও অন্যান্য খরচ মিলে ১৫০০ টাকা গুনতে হয়। মালিকরা যদি জমা কম রাখতেন ও গ্যাস যদি কমে কেনা যেত, তাহলে ভাড়া কমাতে তাদের কোনো অসুবিধা ছিল না।

মোস্তফা ও মামুনসহ একাধিক সিএনজিচালক বলেন, ঈদ সবার জন্য আনন্দের, কিন্তু আমাদের জন্য নয়। ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে যানজট লেগেই থাকে।

তার ওপর ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়কের অবস্থা খুবই জঘন্য। কোনো যাত্রী নিয়ে শহরে গেলেই বিপদ। দুপুরে গেলে বিকাল গড়িয়ে যায় পৌঁছতে। কোনো দিন জমাও উঠে না।

সিএনজি চালকদের বেশি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে রামপুরা ট্রাফিক জোনের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) বিপ্লব ভৌমিক বলেন, এ বিষয়ে ডেমরায় ট্রাফিক পুলিশের কড়া নজরদারি রয়েছে।

বিশেষ করে স্টাফ কোয়ার্টার স্টেশনে সিএনজি চালকরা বেশি ভাড়া হাঁকাতে পারে না। অভিযোগ পেলেই আমরা ব্যবস্থা নিই। তারপরও আমাদের নজরদারি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছি।

ডেমরায় কোনোভাবেই যাত্রী হয়রানি মেনে নেয়া যাবে না। তবে রাস্তা খারাপ ও যানজটের কারণে চালকদের অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অর্থনীতি

পাইপলাইনে এলএনজি পেতে আরও এক মাস গ্যাস...

সাগরের তলদেশে পাইপলাইনে ছিদ্র দেখা দেয়ায় আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পেতে আরও এক মাস সময় লাগবে। জাতীয় গ্রিডে শনিবার এলএনজি যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ছিদ্র মেরামত শেষ না হওয়ায় আরও এক মাস পিছিয়ে গেছে।

পাইপলাইন তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান   বলেন, সাগর উত্তাল ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে যথাসময়ে পাইপলাইনের মেরামত করা যাচ্ছে না। শেষ করতে জুনের প্রথম সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। এ অবস্থায় জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ করতে আরও এক মাস সময় লাগতে পারে।

জানা গেছে, পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরুর পর এই ত্রুটি চিহ্নিত হয়। এই ত্রুটি সারাতে ১০টি স্থানে ওয়েল্ডিং করতে হবে। এজন্য এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) সরবরাহকারী এক্সিলারেট এনার্জির পরামর্শক কোম্পানি দ্য ওশেন আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের কাছে দরপত্র চেয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, আগামী ৪ জুন কাজ শুরু করে দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ করতে হবে। গত বৃহস্পতিবার দ্য ওশেনের কর্মকর্তারা ঢাকায় এসেছেন। ইতিমধ্যে পাইপলাইন মেরামত কাজও শুরু হয়ে গেছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, সাগর ভাগের পাইপলাইনে কিছু ত্রুটি দেখা দেয়ায় নির্ধারিত সময়ে এলএনজি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। তিনি আশা করছেন আগামী মাসের মধ্যে পাইপলাইনের ত্রুটি মেরামত করে এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

এদিকে যথাসময়ে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি যুক্ত না হওয়ায় রোজাজুড়ে সারা দেশে গ্যাস সংকট অব্যাহত থাকবে। দিন দিন এ সংকট তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রামের আবাসিক গ্রাহকরা পুরো রোজায় গ্যাস সংকটে ভোগান্তি পোহাবেন। শুধু আবাসিক গ্রাহকই নয়, শিল্পকারখানাতে গ্যাস সংকট দেখা দেবে। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছে জ্বালানি বিভাগ।

সংকট মোকাবেলায় ইতিমধ্যে বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সবগুলো সার কারখানা ও বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র। তারপরও ঢাকা ও চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট সামাল দিতে পারছে না তিতাস ও কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি।

২৪ এপ্রিল দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনাল জাহাজটি কক্সবাজারের মহেশখালীতে পৌঁছায়। কথা ছিল ২৬ এপ্রিল থেকে ৯১ কিলোমিটার পাইপলাইন হয়ে প্রথম দফায় চট্টগ্রামের জাতীয় গ্রিডে ওই গ্যাস যোগ হবে।

এদিকে এলএনজি সরবরাহ শুরু না হওয়ায় ঢাকায় গ্যাস সংকটের সুরাহার কোনো পথ দেখছেন না তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তারা। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বিরাজমান গ্যাস সংকট তীব্র হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় সারাদিনেও একবার চুলা জ্বলছে না। নগরবাসীর অভিযোগ গ্যাসের চাপ না থাকায় সেহরি-ইফতারের আয়োজন করতে তাদের ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।

ঢাকা মহানগরীসহ তিতাসের আওতাধীন এলাকাতে বর্তমানে ৭০০ মিলিয়ন (৭০ কোটি) ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। সব মিলিয়ে সারা দেশে এখন গ্যাসের ঘাটতি ১১০০ মিলিয়ন (১১০ কোটি) ঘনফুট। এ অবস্থায় শিগগির এলএনজি না আসলে গ্যাসভিত্তিক সব খাতে বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

এক লাখ ৩৩ হাজার ঘনমিটার এলএনজি নিয়ে ২৪ এপ্রিল মহেশখালী দ্বীপের কাছে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছায় এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশের বিশেষায়িত ভেসেল ‘এক্সিলেন্স’। ভাসমান ওই বন্দর (এফএসআরইউ) থেকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। দু’দিন পরই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নয়, সব প্রস্তুতি শেষে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে এলএনজি যুক্ত হতে মে মাসের ২৫ কিংবা ২৬ তারিখ লাগবে।

কিন্তু সবশেষ নির্ধারিত তারিখে গ্যাস সরবরাহের কোনো লক্ষণ দেখা না যাওয়ায় যোগাযোগ করা হয় সরকারি সংস্থা গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী মোহাম্মদ আল মামুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, জিটিসিএলের অধীনে থাকা মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা পর্যন্ত ৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইনটি প্রস্তুত। কিন্তু সমুদ্র থেকে মহেশখালী পর্যন্ত লাইনের কাজটি দেখছে আরপিজিসিএল। আরপিজিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পাইপলাইনের কানেকশনে ছিদ্র দেখা দিয়েছে। সাগর উত্তাল ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেটা মেরামত করা যাচ্ছে না।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এক্সিলারেটর এনার্জির জাহাজের পাইপলাইনের মাঝামাঝি স্থানে থাকা দুটি বক্সের সংযোগ খুলে গেছে। এতে গ্যাসের চাপ কমে যাচ্ছে। সাগরের তলদেশে সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের ছিদ্র মেরামত করা খুবই জটিল ও দুরূহ।

জানা গেছে, এক্সিলারেটর এনার্জির জাহাজের সঙ্গে থাকা চারজন বিশেষজ্ঞ ডুবুরি প্রকৌশলী মেরামত শুরু করেছেন। তারা সাগরের তলদেশে গিয়ে এ কাজ করছেন। প্রতিবার ডুব দেয়ার পর ওই ডুবুরিরা সাগরের তলদেশে চার ঘণ্টা থাকতে পারেন। এরপর উপরে উঠে আসার পর কম করে হলেও ৬ ঘণ্টা বিশ্রাম নিতে হয়। এভাবে প্রতিদিন তারা মেরামত করছেন। সাগর উত্তাল ও বৈরী আবহাওয়া হলে কাজ করা আরও কষ্টকর হয়ে পড়ে।

এদিকে এলএনজি সরবরাহ এক মাস পিছিয়ে যাওয়ায় বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে এক্সিলারেটর এনার্জি। একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের ওপর চাপ দিতে পারে। তবে পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, এলএনজি সরবরাহে দেরি হলে যে ক্ষতি হবে সেটা বাংলাদেশ সরকার নয়; ক্ষতির দায়ভার নিতে হবে এক্সিলারেটর এনার্জিকে। তারা বলছে, চুক্তি অনুযায়ী এক্সিলারেটর এনার্জি বছরে ১১০ দিনের মতো গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে পারবে জাহাজ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে। এই সময়ও প্রতিষ্ঠানটি জাহাজের ভাড়া পাবে। জাহাজের ভাড়া, সেবা ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে সরকার প্রতি বছর এক্সিলারেটর এনার্জিকে দেবে ৭২০ কোটি টাকা। ১৫ বছরে এ বাবদ দিতে হবে ১০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত টার্মিনালের রিগ্যাসিফিকেশন বা তরল থেকে গ্যাসে রূপান্তরের ক্ষমতা রয়েছে দিনে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জুনের শেষে বা জুলাইয়ের শুরুতে এলএনজি সরবরাহ শুরু হলেও দেশে গ্যাসের সংকট দূর হবে না। কারণ হিসাবে তারা বলেছেন, বর্তমানে চাহিদার তুলনায় গ্যাসের ঘাটতি ১১০ কোটি ঘুনফুট। আর এলএনজি থেকে পাওয়ার কথা রয়েছে ৫০ কোটি ঘুনফুট। সে ক্ষেত্রেও সমস্যা থাকবে। এলএনজি থেকে যে গ্যাস পাওয়া যাবে তার অর্ধেক অর্থাৎ ২৫ কোটি ঘনফুট দেয়া হবে চট্টগ্রামে, বাকি অর্ধেক যাবে জাতীয় গ্রিডে।

রাজনীতি

ডি লিট সম্মান পেয়ে অভিভূত শেখ হাসিনা ...

অনলাইন ডেস্ক নিউজ | আপডেট: ১৯:০৯, মে ২৬ , ২০১৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির। দুই নেত্রী একান্তে কথা বলেছেন প্রায় আধঘণ্টা। এ সময় তাদের মধ্যে কি আলোচনা হয়েছে তা কেবল তারাই বলতে পারেন। তবে শেষ সময়ে সফরসূচিতে যুক্ত হওয়া ওই বৈঠকে কি আলোচনা হয়- সেদিকেই তাকিয়েছিল গোটা বাংলাদেশ। কারণ মমতা ব্যানার্জির বাগড়ায় ২০১১ সাল থেকে ঝুলে আছে বহুল প্রত্যাশিত তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি। কলকাতার হোটেল তাজে সন্ধ্যার ওই বৈঠকটি সেরেই প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফরসঙ্গীরা ঢাকার বিমানে ওঠেন। ফলে তিস্তা চুক্তির বিষয়টি বৈঠকে স্থান পেয়েছে কি-না এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঢাকার কোনো সূত্রই তা নিশ্চিত করেনি। তিস্তার বিষয়ে কোন আলোচনা হয়েছে কিনা? বৈঠক শেষে এ নিয়ে মমতার কাছে জানতে চেয়েছিলেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। কিন্তু মমতা তা এড়িয়ে যান। তিনি ইঙ্গিত করেন আগের দিনে শান্তি নিকেতনে দুই প্রধানমন্ত্রী হাসিনা-মোদির বৈঠকের প্রতি। এদিকে পশ্চিমবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় ও শেষদিনে শনিবার রাজ্যের আসানসোলে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমাবর্তনে শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডি লিট ডিগ্রি দেয়া হয়েছে। শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অসাধারণ ভূমিকা রাখার জন্য তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা গ্রহণের প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা ‘সমগ্র বাঙালি জাতিকে উৎসর্গ’ করার ঘোষণা দেন। বলেন- “এই সম্মান শুধু আমার নয়, এ সম্মান বাংলাদেশের জনগণের।” পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ওই সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত যাননি। সেখানে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হাসিনা-মমতা বৈঠক: সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শনিবার কলকাতার একটি পাঁচতারকা হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক হয়। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিতে আপত্তি জানানোর পর কলকাতায় এটিই শেখ হাসিনা এবং মমতার প্রথম একান্ত বৈঠক। মমতা আগেই বলেছিলেন, হাসিনাদির সঙ্গে তার সম্পর্ক খুবই ভালো। শেখ হাসিনাও মমতাকে খুবই ভালোবাসেন। মমতার জন্য নিয়মিত উপহারও পাঠান তিনি। এবারও তিনি মমতাকে উপহার হিসেবে পাঠিয়েছেন পদ্মার সুস্বাদু ইলিশ। গতকালের বৈঠককে মমতা সৌজন্যমূলক আখ্যা দিলেও দুই নেত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে বলে জানা গেছে। মমতা মনে করেন, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যেকার সম্পর্ক বিশ্ববঙ্গের অংশ। কোনো সীমান্ত বা রাজনীতি এখানে কাজ করবে না। এদিনের আলোচনায় অনুপ্রবেশ থেকে শুরু করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে নবান্ন সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক সম্পর্ক দৃঢ় করার ব্যাপারেও দুই নেত্রীর মধ্যে কথা হয়েছে। বৈঠক শেষে মমতা বলেছেন, তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক নিয়েও তাদের মধ্যে কথা হয়েছে। তবে মমতা মনে করেন, সম্পর্ক ঠিক রাখার দায়িত্ব দুই দেশেরই। সেই সঙ্গে মমতা জানিয়েছেন, দুই দেশের সরকার মত দিলে তিনি রাজ্যে বঙ্গবন্ধু ভবন তৈরি করবেন। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিতে ভারত সরকার আগ্রহী হলেও যুক্তরাষ্ট্রীয় বাধ্যবাধকতার খাতিরে তারা মমতাকে বারে বারে বোঝানোর চেষ্টা করেছে। এমনকি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাধ্যবাধকতার কথাও তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু মমতা তার আগেকার অবস্থানেই অনড় রয়েছেন। তিনি মনে করেন, তিস্ত্তাতে এখন পর্যাপ্ত পানি নেই। ডি লিট সম্মান পেয়ে অভিভূত হাসিনা: পশ্চিমবঙ্গের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কবির জন্মদিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডি লিট উপাধি দিয়ে সম্মানিত করেছে। এই সম্মান পেয়ে তিনি যে অভিভূত, একই সঙ্গে গর্বিত, সেটি তার ভাষণেই উল্লেখ করেছেন শেখ হাসিনা। আসানসোলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তনে শেখ হাসিনার হাতে এই সম্মাননা তুলে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সাধন চক্রবর্তী। এদিনের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন না। ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাজ্যপাল কেশরী নাথ ত্রিপাঠিও অসুস্থতার কারণে সমাবর্তনে উপস্থিত হতে পারেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সাধন চক্রবর্তী সমাবর্তনে স্বাগত ভাষণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে এবং গণতন্ত্র, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উন্নয়নে অসাধারণ ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে এই উপাধি দেয়া হয়েছে। সম্মাননা গ্রহণ করে শেখ হাসিনা বলেছেন, কাজী নজরুল ইসলামের নামে তৈরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মাননা গ্রহণের জন্যই ছুটে এসেছি। তিনি বলেছেন, বাংলা ভাগ হয়েছে, কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল কখনো ভাগ হবে না। তিনি বলেছেন, নজরুল এখানে জন্মেছিলেন ঠিকই, কিন্তু তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি। তিনি বলেছেন, কবি নজরুল ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ। আমরা সেই চেতনা নিয়ে বাংলাদেশকে গড়ে তুলছি। মানব কল্যাণে নজরুল যে যুগ যুগ ধরে প্রেরণা জুগিয়ে যাবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। বাংলাদেশের দুঃসময়ে পাশে থাকার জন্য ভারতের মানুষের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তনে তিনি চেষ্টা করে চলেছেন। আর এ ব্যাপারে সব সময় তিনি ভারতকে পাশে পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এই উপমহাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত দেখতে চাই। আর তাই মানবতার কথা বেশি করে ভাবি। এই প্রসঙ্গেই তিনি বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার কথা উল্লেখ করেন। কবি নজরুলের নামে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি এবং কবির গ্রাম চুরুলিয়ার সংস্কারের জন্য তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। গত শুক্রবার শেখ হাসিনা দু’দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরে রাজ্যে এসেছেন। শুক্রবার শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন এবং বিশ্বভারতীর সমাবর্তনে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এদিন বিকেলে জোড়াসাঁকোতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের জন্মগৃহসহ ঠাকুরবাড়ি ঘুরে দেখেন। দেখেন রবীন্দ্র মিউজিয়ামও। সেখানে বাংলাদেশের গ্যালারি রূপায়নের কাজ দ্রুততার সঙ্গে করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। মিউজিয়ামে বাংলাদেশ সরকারের দেয়া পদ্মার বোটের অনুকৃতিটিও তিনি ভালো করে দেখেন। পরে মন্তব্য বইতে তার মতামত লিপিবদ্ধ করেন। শনিবার তিনি এলগিন রোডে নেতাজির বাড়িতে গিয়ে এই বিপ্লবীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শেখ হাসিনার নেতাজি ভবন পরিদর্শন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার বিকেলে দক্ষিণ কলকাতায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বসতবাড়িতে অবস্থিত নেতাজি মিউজিয়াম পরিদর্শন করেন। এই সময় তার সঙ্গে ছিলেন বোন শেখ রেহেনা। নেতাজি ভবনে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান নেতাজি পরিবারের বৌমা সাবেক সাংসদ কৃষ্ণা বসু ও তার পুত্র সুগত বসু। প্রধানমন্ত্রী নেতাজি মিউজিয়ামটি ঘুরে ঘুরে দেখেন। এ সময় নেতাজির প্রতি তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বাজানো হয়েছে, ১৯৭২ সালে নেতাজির জন্মদিনে তার উদ্দেশ্যে নিবেদিত বঙ্গবন্ধুর বার্তা। এই নেতাজি ভবনেই শেখ হাসিনাকে উপহার হিসেবে দেয়া হয় দেশের স্বাধীনতার লড়াইয়ের দিনে মান্দালয় জেলে কারারুদ্ধ নেতাজির গানের খাতার প্রথম পাতাটি। এই পাতাটিতে লেখা ছিল ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সেই গানের খাতা আজও নেতাজি মিউজিয়ামে যত্নে রাখা রয়েছে। এই পাতাটি ১৯৭২ সালে ফ্রেমে বাঁধিয়ে বঙ্গবন্ধুকেও উপহার দিয়েছিলেন নেতাজির ভ্রাতুষ্পুত্র শিশির কুমার বসু। এবার দেয়া হলো তার কন্যাকে। কৃষ্ণা বসু ও সুগত বসু পুরো মিউজিয়ামটি শেখ হাসিনাকে ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন। উল্লেখ্য, নেতাজির ভ্রাতুষ্পুত্র শিশির কুমার বসুকে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, যুবা বয়সে কলকাতায় ছাত্র থাকা অবস্থায় কীভাবে নেতাজির ডাকে হলওয়েল মনুমেন্ট বিরোধী আন্দোলনেই তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। আর মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোয় এলগিন রোডের বাড়িটিও ফের হয়ে উঠেছিল ইতিহাসের রঙ্গভূমি। এই বাড়ি থেকে নানা কাজ ছাড়াও যশোরে নেতাজি ফিল্ড হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন চিকিৎসক শিশির বসু। রেহেনা আগেও নেতাজি ভবন পরিদর্শন করলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রথম নেতাজি ভবন পরিদর্শন করলেন।  বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের সুবিধা দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান: এদিকে বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের যৌথ উদ্যোগের সুবিধা দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দু’দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরের প্রথম দিনে শুক্রবার কলকাতার তাজ বেঙ্গল হোটেলে ভারতীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক ঘরোয়া বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। সেই বৈঠকেই বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারতের বিনিয়োগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, উভয় দেশের স্বার্থে বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের ভারতে বিনিয়োগে, বিশেষ করে যৌথ উদ্যোগের সুবিধা দেয়া দরকার।  বৈঠকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে নদী খননে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ আশা করে বলেন, এতে আঞ্চলিক যোগাযোগ আরো জোরদার হবে। এই বৈঠকে শেখ হাসিনা ছিলেন বেশ খোশ মেজাজে। বৈঠকে উপস্থিত ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট আবদুল মতলুব আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, পশ্চিমবঙ্গের এক শিল্পকর্তা ‘গঙ্গা আমার মা, পদ্মা আমার মা’, এই গানটির দুটি পঙ্‌ক্তি বলেছিলেন। তখন প্রধানমন্ত্রী হেসে বলেন, আর তিস্তাকে বাদ দিলেন? এই রসিকতার অবশ্য অন্য কোনো মানে খোঁজা ঠিক নয় বলে জানিয়েছেন মতলুব। এদিন রাতে রাজভবনে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরী নাথ ত্রিপাঠির দেয়া ভোজসভায় যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

সারাদেশ

মটরসাইকেল ভাংচুর প্রায় ২ ঘন্টা রাস্তা...

কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ) : নওগাঁর রাণীনগরে খাস পুকুরের দখলকে কেন্দ্র করে আজিম উদ্দীন (৩৬) নামের এক যুবলীগের সহ-সভাপতি নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছে ৮ জন । এসময় স্থানীয় লোকজন হামলাকারীদের ধাওয়া করলে মটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে গেলে জনতা দু’টি মটরসাইকেল ভাঙচুর করে । এর পর বিক্ষুদ্ধজনতা রামÍায় আগুন জালিয়ে প্রায় ২ ঘন্টা আবরোধ করে রাখে। হামলার সাথে জরিত সন্দেহে থানাপুলিশ ৪ জনকে আটক করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রবিবার দুপুরে উপজেলার করজগ্রাম উত্তর পাড়া গ্রামে। স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে,ওই গ্রামের মুত সখিন উদ্দীনের ছেলে শহিদুল ইসলাম শহিদ (৪২) গ্রামের মসজিদ কমিটির নিকট থেকে একটি খাসপুকুর ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিল। এরই মধ্যে রাণীনগর উপজেলা থেকে পুকুরটি সরকারীভাবে টেন্ডার হলে লোহাচুড়িয়া গ্রামের একটি সমিতির মাধ্যমে পুকুরটি শাহাদত হোসে সায়েম নামে একজন ইজারা নেয়। এই ইজারাকৃত পুকুরটিতে মাছ ছেরে দিতে গতকাল দুপুরে সাইম ও তার লোকজন পুকুরে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে মার-পিটের ঘটনা ঘটে। এতে শহিদুল ইসলাম শহিদ (৪২) তার ভাই আজিম উদ্দীন (৩৬),আলীম উদ্দীন(৪৮),মা মানিকজান বেওয়া (৬০),আলীম উদ্দীনের স্ত্রী ময়রুন বিবি (৪২) জালাল উদ্দীনের স্ত্রী মফেলা বিবি (৩৪) ,বুলুর স্ত্রী আনোয়ারা (৪২) ও ভ্যান চালক লক্ষন কুমার (৩৭) আহত হয়। এদিকে শহিদুলের উপর হামলা করা হয়েছে এমনটি মসজিদের মাইকে ঘোষনা দিলে গ্রামের লোকজন ছুটে আসলে হামলাকরীরা দু’টি মটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে গেলে ক্ষিপ্ত জনতা মটরসাইকেল দু’টি ভাংচুর করে। এদিকে আহতদের বগুড়ার আদমদীঘি,ও নওগাঁ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিলে আজিম উদ্দীন কে নওগাঁ হাসপাতালে নেয়ার সময় পথি মধ্যে মারা যায় । আজি উদ্দীনের মৃতুর খবর ছড়িয়ে পরলে ক্ষিুভদ্ধ জনতা রাণীনগর-আবাদপুকুর রাস্তার আলাউদ্দীনের মোড় নামকস্থানে রাস্তায় আগুন জালিয়ে প্রায় ২ ঘন্টা আবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে রাণীনগর থানাপুলিশ, নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এহামলার ঘটনায় থানাপুলিশ ৪জনকে আটক করেছে । তবে তাৎক্ষনিকভাবে আটককৃতদের নাম জানা যায়নি। নিহত আজিম উদ্দীন ওই গ্রামের মৃত সখিন উদ্দীনের ছেলে। নিহত আজিমের ভাই শহিদুল ইসলাম জানান,রবিবার দুপুরে হঠাৎ করেই সায়েমের লোকজন আমার ও আমার ভাইদের উপর হামলা চালায় । এতে ছোট ভাই আজিম উদ্দীন নিহত হয়েছে। এব্যাপারে সায়েম উদ্দীন জানান,একটি সমিতির মাধ্যমে পুকুরটি ইজারা নিয়েছি । গতকাল পুকুরে মাছ ছারতে গেলে শহিদ ও তার লোকজন বাধা দেয় । এতে মারপিটের ঘটনা ঘটে। এব্যাপারে রাণীনগর থানার ওসি এএসএম সিদ্দিকুর রহমান জানান,খাসপুকুরের দখলকে কেন্দ্র করে আমিজ উদ্দীন নামে একজন নিহত হয়েছে । এঘটনায় সাথে সাথে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে তবে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

খেলাধুলা

রিয়ালের হ্যাটট্রিক শিরোপা

অনলাইন ডেস্ক নিউজ | আপডেট: ০৩:৩৪, মে ২৭ , ২০১৮

গ্যারেথ বেলের জোড়া গোলে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রিয়াল মাদ্রিদ। শনিবার দিবাগত রাতে ইউক্রেনের কিয়েভ অলিম্পিয়ক স্টেডিয়ামে ইংলিশ ক্লাব লিভারপুলকে ৩-১ গোলে হারায় রিয়াল। দুই দলই প্রথমার্ধে একাধিক প্রচেষ্টা চালালেও তা ব্যর্থ হয়ে যায়। যে কারণে গোলশূন্যতেই শেষ হয় প্রথমার্ধ। তবে লিভারপুলের জন্য দুঃসংবাদটা বড়ই ছিল। দলটির মূল তারকা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ প্রথমার্ধের ৩০ মিনিটেই ওঠে যেতে হয়েছে। ২৫ মিনিটে সার্জিও রামোসের বাজে ট্যাকলে চোট পান তিনি। বেশ কিছুক্ষণ প্রচেষ্টা চালিয়েও স্বাভাবিক হতে না পেরে ফিজিওর পরামর্শে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়েন তিনি। তাই দ্বিতীয়ার্ধে যে লিভারপুলের জন্য কঠিন কিছু অপেক্ষা করছিল তা অনুমান করা গিয়েছিল। হলোও তাই। ৫১ মিনিটে করিম বেনজেমা রিয়ালের পক্ষে গোলের সূচনা করেন। গোলরক্ষকের ভুলে হয় গোলটি। গোললাইনে বল ধরে নিজ দলের খেলোয়াড়কে বল দিতে আলতো করে সামনে বল বাড়িয়ে দেন লিভারপুল গোলরক্ষক। সেই বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোল করেন বেনজেমা। চার মিনিটের ব্যবধানে সাদিও মানে খেলায় সমতা ফেরান। কর্নার থেকে পাওয়া বল থেকে হেডের সাহায্যে গোল করেন তিনি। তবে সমতা ভাঙতে বেশিক্ষণ প্রয়োজন হয়নি রিয়ালের। ৬৩ মিনিটে মার্শেলোর ক্রস থেকে পাওয়া বলে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত বাইসাইকেল কিকে গোল করেন গ্যারেথ বেল। ৮৩ মিনিটে শেষ গোলটিও করেছেন এই ওয়েলস তারকা। ৩০ গজ দূর থেকে বেলের দুর্দান্ত শটটি লিভারপুল গোলরক্ষকের হাতে লাগলেও তিনি বেলকে গোলবঞ্চিত করতে পারেননি। তাই শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে জয় পায় দলটি।

বিনোদন

আমিরের শুটিংয়ে হাজির হয়ে একি করলেন তার...

থাগস অব হিন্দুস্থান’ সিনেমাটি শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন আমির খান। এ ব্যস্ত শুটিং স্পটে এসে ছবি তোলা নিয়ে আমিরের ছেলে জুনায়েদ খান মজার কাণ্ড ঘটিয়েছেন।

তবে জানুন, সম্প্রতি মুম্বাইয়ের একটি স্টুডিওতে ‘থাগস অব হিন্দুস্থান’-এর শুটিং দেখতে হাজির হয়েছিলেন আমির খানের দুই সন্তান জুনায়েদ ও ইরা খান।

আমির খানের ছেলে স্টুডিও ঘুরে দেখছিলেন। এর মধ্যে ঘটে গেল একটা মজার ঘটনা। সেখানে ফটোগ্রাফার বাবা ও মেয়ের ছবি ফ্রেমবন্দি করলেন।এসময় বাদ পড়লেন জুনায়েদ।

জুনায়েদ খান লক্ষ্য করলেন বাবা এবং বোন তাকে ছাড়াই ছবি তুলছেন। এসময় বাবাকে দেখিয়ে মুখ বাঁকান জুনায়েদ।

ছবি তোলার সময় আমির খানের পরনে ছিল রয়েল ব্লু শার্ট এবং জিনস প্যান্ট সঙ্গে পায়ে ছিল একজোড়া কালো মস্ত বুট।

অন্যদিকে আমির খানের কন্যা ইরা খানের পরনে ছিল কালো টপ, খয়েরি স্কার্ট এবং কালোর মাঝে সাদা ডিজাইনের একজোড়া কনভার্স।

জুনায়েদ খানের পরনে ছিল কাতুয়া, জিনস প্যান্ট এবং একজোড়া শ্যাওলা রঙের কনভার্স।

ছবি তোলার পর্ব শেষ করে তারা গাড়িতে উঠে বসলেন। ইরা খান ও আমির খান পাশাপাশি বসলেন। আর জুনায়েদ খান বসলেন গাড়ির পেছনের সিটে। অতঃপর জুনায়েদ খানসহ তাদের তিনজনের ছবি ক্যামেরাবন্দি হলো। বাবা ও বোনের সঙ্গেও ছবি তোলা হলো জুনায়েদের।

‘থাগস অব হিন্দুস্থান’ চলচ্চিত্রটিতে আরও অভিনয় করছেন বিখ্যাত অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন ক্যাটরিনা কাইফ, আমির খান এবং ফাতিমা সানা শেখ। বিজয় কৃষ্ণ আচার্য পরিচালিত ছবিটির প্রযোজনা করছেন আদিত্য চোপড়া।

‘থাগস অব হিন্দুস্থান’ ছবিটি আগামী ৭ নভেম্বর ২০১৮ মুক্তি পাবে।

আন্তর্জাতিক

ফেসবুকের সিইও হতে চান হিলারি ক্লিনটন

অনলাইন ডেস্ক নিউজ | আপডেট: ১১:৩৯, মে ২৭ , ২০১৮

হিলারি ক্লিনটন ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন ফার্স্ট লেডি। ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হয়েছিলেন। এবার তিনি রাজনীতি ছেড়ে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুকের সিইও হতে চাইছেন। তিনি নিজেই জানিয়েছেন এই কথা। 
 
অ্যাটর্নি জেনারেল মাউরা হিলি প্রশ্ন করেছিলেন, কোন সংস্থার সিইও হতে চাইবেন? জবাবে হিলারি বলেছেন, ‘‌ফেসবুকের। কারণ এটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় খবরের মাধ্যম। আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষই ফেসবুকের মাধ্যমে খবর দেখেন। সেই খবর সত্যি হোক বা মিথ্যে।’ 
 
কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা বিতর্কের জেরে সম্প্রতি ফেসবুকের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক উদ্দেশে বিশ্বজুড়ে ৮৭ মিলিয়ন ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফেসবুক এখন ফের মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে হিলারি ক্লিনটনের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বিশ্বব্যাপী। তাছাড়া স্বচ্ছ ভাবমূর্তি থাকায় এই পদের জন্য তিনি যথাযোগ্য প্রার্থী। এমনকী ফেসবুকের সিইও হিলারি ক্লিনটন হলে স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চাপে পড়ে যাবেন। যেহেতু তিনি সবচেয়ে বেশি ফেসবুক নেটওয়ার্কিং সাইট ব্যবহার করেন। আজকাল

শিক্ষা

বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ...

বিশেষ প্রতিনিধী | আপডেট: ০৩:১৪, মে ২৩ , ২০১৮

আসন্ন বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সর্বোচ্চ বরাদ্দটা শিক্ষা খাতে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদ-। শিক্ষিত জাতিই পারে আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে। এজন আমাদেরকে মানসম্মত শিক্ষা অর্জন করতে হবে। গুণগত শিক্ষা অর্জন করতে পারলে দেশকে আমরা অল্প সময়ে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারব। সেজন্য শিক্ষা খাতকে উৎসাহিত করতে হবে। প্রয়োজনীয় সর্বোচ্চ সার্পোট দিয়ে যেতে হবে যা বর্তমান সরকার দিয়ে আসছে। তারপরও শিক্ষা খাতে আরও অনেক কিছু করার আছে বলে আমি মনে করি। তিনি আরও বলেন, আমরা সব সময়ই দাবি জানিয়ে আসছি যে, শিক্ষাখাতে বাজেট বাড়ানো দরকার। শুধু বাজেট বাড়ানোই নয়, সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সর্বোচ্চ বরাদ্দটা শিক্ষা খাতে দেওয়া উচিত। কারণ শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত সকল মন্ত্রণালয়, শিক্ষা খাতের সঙ্গে যুক্ত দেশের সকল উন্নয়ন। আর সেই শিক্ষা খাতকে যদি বাজেটের দিক থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া না হয় তাহলে শিক্ষায় আমরা ত্রুমান্বয়ে পিছিয়ে পড়ব। অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, এটা একবিংশ শতাব্দী। পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা যদি মানসম্পন্ন বা গুণগত শিক্ষা অর্জন করতে না পারি তাহলে অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে পড়ব। মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হলে শিক্ষা খাতের বাজেট বৃদ্ধির বিকল্প কিছু আছে বলে আমার মনে হয় না। আমি আশা করব যে, আগামী জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণনয় করা হবে।

স্বাস্থ্য

নিয়মিত মিষ্টি আলু কেন খাবেন?

অনলাইন ডেস্ক নিউজ | আপডেট: ০২:০৮, মে ১১ , ২০১৮

 অনেকেই মিষ্টি আলু খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু কতজনই বা জানেন মিষ্টি আলু স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী। মিষ্টি আলু শুধু সাদা নয় বেগুনী, লাল, হালকা হলুদ ও কমলা রঙেরও হয়। মিষ্টি আলু প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ উপাদান সমৃদ্ধ। সবজি হিসেবেও মিষ্টি আলুর তুলনা হয় না।

মিষ্টি আলু নিয়মিত খেলে অনেক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। বিবিসির এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি উঠে এসেছে মিষ্টি আলুর পুষ্টিগুণ।

১. শ্বাসকষ্ট কমে

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে সপ্তাহে কয়েক দিন মিষ্টি আলু খেলে ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার প্রক্রিয়া ঠিক মতো হতে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শ্বাসকষ্ট থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

২. ডায়াবেটিস থেকে দূরে থাকে

স্বাদে মিষ্টি হলেও রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে এই সবজিটির বেশ কার্যকর। মিষ্টি আলুতে গ্লাইসেমিক ইনডেক্সে একেবারে নিচের দিকে রয়েছে। তাই এই সবজিটি খাওয়া মাত্র শরীরে সুগারের মাত্রা তো বাড়েই না, উল্টো ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বেড়ে যাওয়ার কারণে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বাড়ে

আয়রন হলো এমন একটি খনিজ যা শ্বেত এবং লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যে দিয়ে ইমিউন সিস্টেমের ক্ষমতা বাড়াতে দারুন কাজে আসে। আর এই খনিজটি প্রচুর পরিমাণে আছে মিষ্টি আলুতে। ফলে সপ্তাহে এক থেকে দুবার এই সবজিটি খাওয়ার অভ্যাস করলে ছোট-বড় কোনো রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারবে না।

৪. ওজন বৃদ্ধি পায়

অপেক্ষাকৃত বেশি চিকন মানুষদের জন্য মিষ্টি আলুর খুবই উপকারী। প্রতিদিন মিষ্টি আলুকে খেলে শরীরে কমপ্লেক্স স্টার্চ, ভিটামিন, মিনারেল এবং প্রোটিনের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন বৃদ্ধি পেতে সময় সাগে না।

৫. স্মৃতিশক্তি বাড়ে

মানব মস্তিষ্কের ভেতরে থাকা নার্ভ সেলগুলো নিজেদের মধ্যে যত সুন্দরভাবে সংকেত আদান-প্রদান করবে, তত স্মৃতিশক্তি বাড়তে শুরু করবে। সেই সঙ্গে বাড়বে বুদ্ধি, মনোযোগ এবং মনে রাখার ক্ষমতাও। এক্ষেত্রে পটাশিয়াম কাজে আসতে পারে। আর এই খনিজটি প্রচুর মাত্রায় রয়েছে মিষ্টি আলুতে। তাই স্মৃতিশক্তি বাড়াতে মিষ্টি আলু নিয়মিত রাখুন খাদ্য তালিকায়।

৬. ক্যান্সার প্রতিরোধ করে

মিষ্টি আলুতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ক্যারোটিনয়েড এবং ভিটামিন এ ক্যান্সার প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। শুধু তাই নয়, এই উপাদানগুলো দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে।

৭. ভিটামিন সি-এর ঘাটতি দূর হয়

দাঁত এবং হাড়কে শক্ত করার পাশাপাশি হজম ক্ষমতার উন্নতিতে এবং একাধিক সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে ভিটামিন সি-এর কোনো বিকল্প নেই। এখানেই শেষ নয়, এছাড়া ব্লাড সেলের ফর্মেশানেও ভিটামিন সি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৮. ভিটামিন বি৬-এ চাহিদা মেটায়

এই ভিটামিনটি শরীরে একাধিক ক্ষতিকর ক্যামিকেলের প্রভাব কমিয়ে দেয়। ফলে একাধিক ডিজেনারেটিভ ডিজিজ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। সেই সঙ্গে হার্টেরও উন্নতি ঘটায়। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।

৯. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে

প্রচুর মাত্রায় ফাইবার থাকার কারণে নিয়মিত এই সবজিটি খেলে পাচক রসের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে। সেই সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্যে মতো সমস্যাও কমতে শুরু করে।

১০. বিষণ্নতা কমে

মিষ্টি আলুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম। এই খনিজটি আর্টারি এবং হার্টের পেশির কর্মক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিষণ্নতা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

আইটি টেক

১১৯ দশমিক ১৩ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান...

অনলাইন ডেস্ক নিউজ | আপডেট: ০৪:৩০, মে ২৭ , ২০১৮

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিজ কক্ষপথে পৌঁছানোর পর তার ইন অরবিট টেস্ট (আইওটি) শুরু হয়েছে। নিয়মানুসারে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় ধরে এ টেস্ট করা হবে। যার ভিত্তিতেই বলা যাবে স্যাটেলাইটি বাণিজ্যিক সেবা দেয়ার জন্য ঠিকঠাক মতো কাজ করছে কিনা। আর এ টেস্ট সফলভাবে চলছে বলে জানা গেছে। বলছেন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রকল্প পরিচালক মো. মেসবাহউজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত যা খবর তাতে সবই পরিকল্পনা মতো চলছে। আইওটি হওয়ার পরেই গাজীপুর গ্রাউন্ড স্টেশনে স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ আসবে। তার আগ পর্যন্ত এটি থ্যালাসের অন্য তিন গ্রাউন্ড স্টেশন দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে, বলেন মেসবাহউজ্জামান। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর নির্মাতা কোম্পানি থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্কেসের স্যাটেলাইট ইঞ্জিনিয়াররা বাংলাদেশে এসে গাজীপুর এবং রাঙ্গামাটির গ্রাউন্ড স্টেশনে ইন অরবিট সংক্রান্ত কাজগুলো শুরু করেছে। সব কিছু আগের পরিকল্পনায় এগুচ্ছে বলেও তারা জানিয়েছেন বলে জানান মেসবাহ। এদিকে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, তারা তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছেন এবং আইওটির পরেই তারা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সাফল্যের খরব বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট বাজারে নিয়ে হাজির হবেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, সব কিছু শেষ করে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট থেকে সেবা পেতে সব মিলে তিন মাসের মতো সময় লাগবে। তবে এর মধ্যে তাদের বাণিজ্যিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করে রাখা হবে। উল্লেখ্য, ১১ মে, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাতে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয় দেশের প্রথম স্যাটেলাইট। মহাকাশে স্যাটেলাইটের প্রকৃত সময় পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে দেখা যায় বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট ১১৯ দশমিক ১৩ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছে। মানচিত্র অনুযায়ী ইন্দোনেশিয়ার পালু ও বোনটাংয়ের মধ্যবর্তী মাকাসার প্রণালির ওপর জিওস্টেশনারি কক্ষপথে ঘোরাফেরা করছে স্যাটেলাইটটি। এটি ২০১৩ সালে রাশিয়ান কোম্পানি স্কুটনিকের কাছ থেকে ভাড়া নেয়া অরবিটল স্লটে অবস্থান করবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে রয়েছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার। এর মধ্যে ২৬টি কেইউ-ব্যান্ড ও ১৪টি সি-ব্যান্ডের। ওই ট্রান্সপন্ডারগুলোর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২০টি ব্যবহার করবে বাংলাদেশ। এই কক্ষপথ থেকে বাংলাদেশ ছাড়াও সার্কভুক্ত সব দেশ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও কাজাখস্তানের কিছু অংশ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আওতায় আসবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এই স্যাটেলাইট দিয়ে সেবা দেয়া সম্ভব হবে না।

সাহিত্য

চুমুকে চুমুকে পান করি আল্লাহর রহমত

অনলাইন ডেস্ক নিউজ | আপডেট: ০৪:২২, মে ২৭ , ২০১৮

স্বপ্নময় রমজান মানুষকে অবিরত পরিশ্রম করতে সাহায্য করে। সাধনায় উৎসাহ জোগায়। কিন্তু একজন আদর্শ মানুষের স্বপ্ন কী হবে বা কী হওয়া উচিত, পবিত্র কুরআন এবং রাসুলের হাদিস মানুষকে তা শিখিয়েছে। একজন মানুষের চরম লক্ষ্য হবে তার স্রষ্টা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ করা। মানুষ আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছলেই বলা হয় আল্লাহর সন্তুষ্টি বা নৈকট্য লাভ হয়েছে।

এর উপায় হচ্ছে সংযম সাধনা ও আল্লাহর ইবাদতে নিজেকে ব্যস্ত রাখা। এতে শারীরিক কিছু কষ্ট হলেও তা মানুষকে আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছতে সাহায্য করবে। এতে আল্লাহর প্রেম অর্জিত ও বর্ধিত হবে। আল্লাহ বলেন, যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি অবশ্যই তাদের আমার পথে পরিচালিত করি। নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের সঙ্গে আছেন। [সূরা আনকাবুত, আয়াত : ৬৯]

সিয়াম মানে সংযম। সিয়াম মানে সাধনা। সিয়াম মানে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত ও দাসত্ব মেনে নেয়া। সংযম সাধনা কিংবা আল্লাহর ইবাদত অর্জনের জন্য ভালো-মন্দ, কল্যাণ এবং অকল্যাণের ব্যবধান এবং বোধ সৃষ্টি করতে হবে সিয়াম পালন করে। এ বোধ ভালোকে গ্রহণ করে এবং মন্দকে বর্জন করতে সাহায্য করবে।

দুটি নদীর পানি। একটি নোনা, অপরটি মিষ্টি। একটি পরিচ্ছন্ন, অপরটি ঘোলাটে। একটি আরেকটির সঙ্গে মেশে না। পবিত্র কুরআনের সূরা আর রাহমানের ১৯ ও ২০ নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা এর দৃষ্টান্ত দিয়ে বান্দাকে শিখিয়েছেন। দেখ আমার বান্দা, ভালো-মন্দ একসঙ্গে থাকবে। হয়তো একই রকম মনে হবে। তাই বলে মন্দকে গ্রহণ করা যাবে না।

আল্লাহতায়ালা দোষ এবং গুণ দুটিই সৃষ্টি করেছেন। ক্ষেত্রবিশেষে দুটিকে একই রকম দেখতে লাগে। দোষ এবং গুণ দেখতে কখনও একরকম মনে হলেও এর প্রভাব, প্রতিক্রিয়া, উদ্দেশ্য এবং ভিত্তিতে রয়েছে বিরাট ব্যবধান। যেমন- দানশীলতার উদ্দেশ্য হয় অন্যের সেবা ও উপকার আর অপব্যয়ের উদ্দেশ্য হয় নিজের ভোগ-বিলাস ও বাবুগিরি।

ভালো-মন্দ দুটিই সায়েমের সামনে আসবে। সায়েমের কাজ হবে মন্দ স্বভাব পরিহার করে ভালো গুণ অর্জন করা। ভালো গুণ চেনার জন্য কোথাও যাওয়া লাগে না। মানুষের রুচিবোধ এবং কলবই বলে দেয়- কোনটি ভালো। কোনটি মন্দ। কোনটি গ্রহণীয়। কোনটি বর্জনীয়।

এ সম্পর্কে পবিত্র হাদিসের বর্ণনা রয়েছে। সাহাবি ওয়াবেছা (রা.) নবীজির দরবারে হাজির হলেন। নবীজি বললেন, হে ওয়াবেছা, তুমি নেক-বদ ও ভালো-মন্দের ব্যবধান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে এসেছ? সাহাবি বললেন, জি, ইয়া রাসুলুল্লাহ। নবীজি তার বুকে আলতো থাপ্পড় দিয়ে বললেন, ইসতাফতি কল্বিকা। অর্থাৎ ন্যায়-অন্যায় ও ভালো-মন্দের বিষয়ে তোমার বিবেকের কাছে জিজ্ঞেস কর। এ কথাটি তিনবার বলে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নেক হচ্ছে সওয়াব এবং ভালো হচ্ছে- যার ওপর বিবেক আশ্বস্ত হয়। অন্তর শান্তি পায়। খারাপ ও গুনাহ হচ্ছে, যে ব্যাপারে বিবেকে খটকা লাগে, অন্তরে দ্বিধা ও সংশয়ের সৃষ্টি হয়।

ভালো স্বভাব অর্জনের জন্য রহমতের এই ১০ দিন আমরা প্রচেষ্টা চালিয়েছি। আশা করি আল্লাহ আমাদের সফলতা দান করেছেন। সুবোধ হওয়া এবং এর ওপর অবিচল থাকার জন্য নবীজি (সা.) দোয়া করতেন। আল্লাহু আরিনাল হাক্কা হাক্কাও, ওর্য়াজুকনাত্তি বাআ। ওয়া আরিনিল বাতিলা বাতিলাও ওয়ারজুকনাজতি নাবা। অর্থাৎ হে আল্লাহ, আমাকে ভালোকে ভালো করে দেখাও, এর ওপর আমল করার তৌফিক দাও এবং মন্দ ও খারাপকে খারাপ করে দেখাও, এর থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দাও।

এভাবে প্রতিদিন সায়েম দোয়া করবে আর নিজের ভেতরকার মন্দ স্বভাবগুলো ছেড়ে দেবে। তাহলেই তো রোজার রহমত পাওয়া যাবে। হে আল্লাহ আমাদের রহমতের পেয়ালা ভরিয়ে দিন। জীবন ভর এ রহমতে আমাদের ঢেকে রাখুন।

লেখক : প্রিন্সিপাল, মাদরাসাতুল, বালাগ, ঢাকা

ফিচার

যে দেশে টাকার বদলে বেতন হিসেবে শিক্ষকরা...

অনলাইন ডেস্ক নিউজ | আপডেট: ০৪:৫৭, মে ২৭ , ২০১৮

পৃথিবীর সব দেশেই কাজের বিনিময়ে দেয়া হয় অর্থ। হোক সেটা শিক্ষকতা বা অন্য কোনো পেশায়। সরকারি কোষাগার থেকে কিংবা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ থেকেই দেয়া হয়। কিন্তু যদি স্কুলে নগদ অর্থের পরিবর্তে গরু-ছাগল বেতন হিসেবে দেয়া হয় সেটি আসলেই অবাক হওয়ার মতো। এমনই ঘোষণা দিয়েছে জিম্বাবুয়ে সরকার।

দেশটির শিক্ষামন্ত্রী লাজারুস ডোকোরা বলেছেন, অভিভাবকদের কাছ থেকে স্কুলের বেতন আদায়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো নমনীয় হতে হবে। শুধু গবাদিপশুই নয়, নানা ধরনের সেবাও বেতনের বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। কেউ যদি রাজমিস্ত্রির কাজ করে, তাহলে তাকে দিয়ে স্কুলে রাজমিস্ত্রির কাজ করানো যেতে পারে।

কোনো কোনো স্কুলে ইতোমধ্যেই নগদ অর্থের বদলে গবাদিপশু গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপ এমন এক সময় নেয়া হয় যখন জিম্বাবুয়ের ব্যাংকগুলো গবাদিপশু অর্থাৎ গরু, ছাগল, ভেড়াকে জামানত হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করে।

সম্প্রতি, জিম্বাবুয়ের পার্লামেন্টে পাস হওয়া এক আইনে বলা হয়েছে, মোটরগাড়ি বা যন্ত্রপাতির মতো অস্থাবর সম্পত্তিকে ব্যাংকে জামানত হিসেবে রাখা যাবে।

জিম্বাবুয়েতে নগদ অর্থের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ব্যাংক থেকে অর্থ তুলতে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। 

সরকার অভিযোগ করছে, এক শ্রেণির মানুষ দেশ থেকে অর্থ পাচার করছে বলেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, বিনিয়োগ সঙ্কট এবং বেকারত্বই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

বিশ্বকাপ জয়ের উত্সবে বর্ণিল বার্লিন নগর
মিরোস্লাভ ক্লোসার হাতে মাইক্রোফোন। তাঁর নেতৃত্বে আনন্দ-সংগীত পরিবেশনরত অন্য জার্মান ফুটবলাররা।
রকমারি

তিন দশক পর পানির নিচ থেকে জেগে উঠল শহর!

অনলাইন ডেস্ক নিউজ | আপডেট: ০৪:৫২, মে ২৭ , ২০১৮

ঘটনাটি ঘটেছে আর্জেন্টিনায়। পাানির নিচ থেকে  উঠে এলো একটি শহর। প্রায় ৩০ বছর পর শহরটি উঠে আসার সঙ্গে সঙ্গে জেগে উঠলো পুরনো সব স্মৃতি। স্মৃতি হাতড়ে মানুষগুলো মনে করার চেষ্টা করলেন শৈশবে কাটানো দিনের কথা। কেউ কেউ খোঁজার চেষ্টা করলেন নিজের ঘর-বাড়ি। 

দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এপিসুন নামের শহরটি একটি ছোট লেকের ধারে অবস্থিত ছিল। যেখানে প্রায় দেড় হাজার মানুষ বসবাস করতেন। ছুটি কাটাতে অনেক পর্যটক যেতেন ওই শহরে। লেকের পানি ছিল সমুদ্রের পানির চাইতেও বেশি নোনতা। শহরটিতে লেকটি ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয়। এই লেক নিয়ে প্রচলিত গল্পটি হলো, একজন বিশিষ্ট মানুষের চোখের পানি দিয়ে তৈরি হয়েছিল লেকটি। ইহুদি সম্প্রদায়ের মানুষেরাও এই শহরে আসতেন কেবলমাত্র এই লেকের জন্য। শহরটিতে বাড়ি-ঘরের পাশাপাশি আরও ছিল লজ, হোটেল এবং গেস্টহাউস।  

৩০ বছর আগে ভারী বৃষ্টিপাতের পর পানির তলায় চলে যায় এপিসুন। বহু মানুষ পালিয়ে যায় শহর থেকে। কয়েকদিনের মধ্যেই ৩৩ ফুট পানির নিচে চলে যায় শহরটি। শহটিকে আবার নতুনভাবে গড়া না হলেও এটা যে নিঃসন্দেহে একটি দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠবে এটা বলা অপেক্ষা রাখে না।